আইবিএস এর ঔষধ [মুক্তির উপায়, খাওয়ার নিয়ম ও দাম]
আইবিএস এর ঔষধ সম্পর্কে জানতে হলে আপনাকে এই আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে। আইবিএস (ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম) মানুষের পেটের একটি পরিচিত সমস্যা। এটি একটি যন্ত্রণাদায়ক ও বিরক্তিকর সমস্যাও বটে। এই রোগে সাধারণত মানুষ দীর্ঘদিন কষ্ট পেয়ে থাকে। তরুণ এবং তরুণীরা এই রোগে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে। বিশেষ করে নারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এই সমস্যা। তবে এই রোগ থেকে খুব সহজে আপনি মুক্তি পেতে পারেন যদি আপনি আইবিএস এর গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে ভালোভাবে জানেন।
কিভাবে বুঝবেন আইবিএস কী না?
আইপিএস আসলে কোন জটিল রোগ নয়। তবে এটি মানুষের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত ভীতি তৈরি করতে পারে। একটি প্রচলিত ভুল ধারণা হলো এটিকে অনেকে মানসিক রোগ মনে করে থাকে। এই রোগ দুই রকম হতে পারে।
আইবিএস ডি: যেখানে পেটে ব্যথার সঙ্গে পাতলা বা নরম পায়খানা হয়।
আইবিএস সি:যেখানে পেটে ব্যথার সঙ্গে কোষ্ঠকাঠিন্য থাকে।
এছাড়া আরো কিছু লক্ষণ রয়েছে যেগুলো খেয়াল করলে বুঝতে পারবেন।
- পেটে অত্যধিক গ্যাস জমা
- পেটের মধ্যে আওয়াজ হওয়া
- বুক জ্বালা করা
- বদহজম হওয়া
- পায়খানা অসম্পন্ন থাকা
- পেটে ব্যথা হয়
- টয়লেটে যাওয়ার খুব তাগিদ দেখা দেয়
- পাতলা পায়খানা
- ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ হয়
- নারীদের ক্ষেত্রে মাসিক চলাকালীন ব্যথা
- কখনো পায়খানার সঙ্গে রক্ত যায়
- শারীরিক অবসাদ ও দুর্বলতা
- মাথাব্যথা
- পিঠব্যথা
- কোমরে ব্যথা
- ওজন কমে যাওয়া
- হঠাৎ পায়খানার ঘনত্বের পরিমাণ কমে যাওয়া
আইবিএস কেন হয়?
এটি পরিপাকতন্ত্রের একটি কার্যগত সমস্যা। এই রোগের সঠিক কারণ এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। তবে কিছু সম্ভাব্য কারণ রয়েছে সেগুলো হলো:
- উদ্বেগ ও মানসিক চাপ
- অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস
- মাদক গ্রহণ
- বংশগত
- পেটের যে কোন অপারেশন
- দীর্ঘদিন এন্টিবায়োটিক সেবন
- নারীদের হরমোনগত পরিবর্তন
- অনিয়মিত এবং অপর্যাপ্ত ঘুম
আইবিএস থেকে মুক্তির উপায়
- গরম পানি ও লেবু রস সারাদিন খেতে পারেন।
- খালি পেটে চাল কুমড়া কিংবা বাঁধাকপি ব্লেন্ড করে খেতে পারেন।
- বেশি বেশি কলা, পেঁপে ও পিয়ারা খান।
- পর্যাপ্ত এবং তাড়াতাড়ি ঘুমান।
- প্রতিদিন ৩০ মিনিটের বেশি সময় শারীরিক ব্যায়াম করুন। বিশেষ করে পেটের ব্যায়াম।
- সময় মত খাবার গ্রহণ করুন। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন।
- মানসিক চাপ দূর করতে হবে।
- আকু প্রেসার পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন।
আইবিএস এর ঔষধ
- রিফাগাট ট্যাবলেট
রিফাগাট অপসোনিন ফার্মা লিমিটেড কোম্পানির একটি ওষুধ। যেটির গ্রুপ নাম হলো রিফাক্সিমিন। এই ট্যাবলেট ওষুধ পেটের সকল সমস্যার বিরুদ্ধে কাজ করে থাকে। এটি মূলত এন্টিবায়োটিক জাতীয় ওষুধ।
রিফাগাট খাওয়ার নিয়ম: এই ট্যাবলেট শুধুমাত্র প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিরা সেবন করতে পারবে। সর্বনিম্ন বয়স হবে ১২ বছর। প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিরা রিফাগাট ৫৫০ ট্যাবলেট সেবন করতে পারবে। প্রতিদিন দুটি ট্যাবলেট সেবন করতে হবে। অবশ্যই খাবার পর ভরা পেটে খাবেন। অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিরা রিফাগাট ২০০ ট্যাবলেট সেবন করবে। অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খেতে হবে।
রিফাগাট এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: রিফাগাট ট্যাবলেট সেবনে পেটে ব্যথা, মাথাব্যথা, বমি, কোষ্ঠকাঠিন্য, বমি বমি ভাব, পেট ফাঁপা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে।
রিফাগাট এর দাম: রিফাগাট ৫৫০ প্রতি পিস ট্যাবলেট এর মূল্য ৪৫ টাকা এবং রিফাগাট ২০০ প্রতি পিস ট্যাবলেট এর মূল্য ২০ টাকা।
এছাড়া আরো কিছু প্রচলিত আইবিএস এর ঔষধ এর নাম উল্লেখ করা হলো:
- রিফাক্সিন ট্যাবলেট (জিসকা)
- ইফাক্সিম ট্যাবলেট (স্কয়ার)
- রিফাম্যাক্স (ইনসেপ্টা)
উপরে উল্লেখিত সবগুলো ওষুধের সেবনবিধি ও দাম একই।
বিশেষ সতর্কীকরণ: ওষুধ খাওয়ার চেয়ে আপনি যদি কারণ ও মুক্তির উপায় ভালোভাবে জানেন তাহলে আশা করি এই রোগ থেকে মুক্তি পেয়ে যাবেন। এজন্য আপনাকে আর্টিকেলটি পুরো পড়তে হবে।
আইবিএস রোগীর খাবার তালিকা
- দই
- কাঁচা পেঁপে
- মুগডাল
- ডিম
- মাছ
- ভাত-চালের রুটি-আলু-নুডলস
- আঁশবিহীন সবজি ও ফল
আইবিএস হলে কি কি খাওয়া যাবে না?
- কোমল পানীয়
- বাসি খাবার
- অতিরিক্ত চর্বি ও মিষ্টি
- অ্যালকোহল
- কাঁচা রসুন
- পেঁয়াজ
- শসা
- মুলা
- ঝালযুক্ত খাবার
- সালাদ ড্রেসিং
- মেয়ানেজ
- পনির
- কড়া চা-কপি যতটা সম্ভব কম খেতে হবে
- বেশি ভাজা জাতীয় খাবার
- অতিরিক্ত মসলা
- চানাচুর
- বিস্কুট
- রুটি
- গমের তৈরি বিভিন্ন খাবার
- গম জাতীয় খাবার
- বাইরে তৈরি খাবার
- শাক জাতীয় খাবার
![আইবিএস এর ঔষধ [মুক্তির উপায়, খাওয়ার নিয়ম ও দাম] আইবিএস রোগ এর ঔষধ সম্পর্কে বিস্তারিত](https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEi2SA1Jhvilg8ve4n6eO_UVGiIeNB6EfapyqCFf_mbhhRT3IFn0BeDxXeeOy7xfXNlhJljLtZo50os2l57hsyD3mhSHoouqNhMV8Iftncw_IpcrOpB1qaHAdOYnCpQ4ZOx3dZ4O8-vnCVU8-Cf2jRwbBEUtgfs3vr722QybnXo8-XdCyOFkSFhxiy4I4p8/s16000-rw/%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%8F%E0%A6%B8%20%E0%A6%8F%E0%A6%B0%20%E0%A6%94%E0%A6%B7%E0%A6%A7.jpg)