টিবি রোগের ঔষধের নাম | খাওয়ার নিয়ম | পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

জেনে নিন টিবি রোগের ঔষধ সম্পর্কে বিস্তারিত
যক্ষ্মা (টিবি) ছোঁয়াচে ও সংক্রামক রোগ। সংক্রামিত ব্যক্তি যখন কথা বলে, কাশি দেয় বা হাঁচি দেয় তখন বাতাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই রোগ ফুসফুসে হয়ে থাকে। সঠিক চিকিৎসা না নিলে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে। 

তাই অবশ্যই আপনাকে কারণ, লক্ষণ ও করণীয় সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে হবে। এই রোগের ওষুধ সাধারণত সরকার থেকে বিনামূল্যে দেয়া হয়ে থাকে। নিকটস্থ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ যোগাযোগ করলে জানতে পারবেন।

টিবি রোগের কারণ

টিবি রোগের সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো জীবাণুর ক্ষুদ্র ফোঁটা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে যা বাতাসে নির্গত হয় যার সক্রিয় সংক্রমণ রয়েছে। যক্ষ্মার অন্যান্য কারণগুলো অন্তর্ভুক্ত করতে পারে:

  • টিবি ব্যাকটেরিয়া ইনহেলেশন
  • সংক্রামিত ব্যক্তির সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকলে
  • ধূমপান
  • অত্যধিক অ্যালকোহল সেবন
  • ডায়াবেটিস
  • বয়স্ক ব্যক্তিদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি
  • দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগ
  • বংশগত

টিবি রোগের লক্ষণ

যক্ষ্মা রোগের কিছু সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • অবিরাম কাশি যা তিন সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়
  • কাশি থেকে রক্ত বা থুতু (কফ)
  • বুকে ব্যথা বা অস্বস্তি
  • ক্লান্তি, দুর্বলতা, এবং অস্থিরতা
  • জ্বর, বিশেষ করে সন্ধ্যায়
  • রাতে ঘাম
  • ক্ষুধা হ্রাস এবং ওজন হ্রাস
  • শ্বাসকষ্ট বা শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া
  • ফোলা লিম্ফ নোড, বিশেষ করে ঘাড়ে

টিবি রোগের ঔষধের নাম

  • রিফাম্পিন (আরআইএফ)
  • ইথামবুটল (ইএমবি)
  • পাইরাজিনামাইড (পিজেডএ)
  • ইসোনিয়াজ়িড 
  • রিফ্যামপিসিন
  • প্রেটোমানিড

টিবি রোগের ঔষধ খাওয়ার নিয়ম

যক্ষ্মা (টিবি) ওষুধ গ্রহণের জন্য এখানে কিছু সাধারণ নির্দেশিকা রয়েছে:

  • আপনার ডাক্তারের নির্দেশাবলী অনুসরণ করুন: আপনার ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধটি গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে ডোজ, ফ্রিকোয়েন্সি এবং চিকিৎসার সময়কাল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
  • নিয়মিত আপনার ওষুধ খান: কার্যকর হওয়ার জন্য টিবি ওষুধ অবশ্যই নিয়মিত সময়সূচীতে নিতে হবে। ডোজ মিস করা বা প্রাথমিক চিকিৎসা বন্ধ করা ওষুধের প্রতিরোধের দিকে পরিচালিত করতে পারে এবং সংক্রমণ নিরাময় করা কঠিন করে তোলে।
  • সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সচেতন থাকুন: টিবি ওষুধের সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলোর মধ্যে রয়েছে বমি বমি ভাব, বমি এবং ক্ষুধা হ্রাস। এই পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াগুলো সাধারণত অতিরিক্ত ওষুধ বা খাদ্যের পরিবর্তনের মাধ্যমে পরিচালিত হতে পারে।
  • আপনার ডাক্তারকে অবহিত রাখুন: আপনি যদি কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনুভব করেন বা আপনার ওষুধ সম্পর্কে উদ্বেগ থাকে, তাহলে অবিলম্বে আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলুন। তারা আপনাকে যেকোনো উপসর্গ পরিচালনা করতে এবং প্রয়োজনে আপনার চিকিৎসা পরিকল্পনা সামঞ্জস্য করতে সহায়তা করতে পারে।
  • চিকিৎসার সম্পূর্ণ কোর্সটি শেষ করুন: এমনকি আপনার চিকিৎসা সম্পূর্ণ হওয়ার আগে আপনি ভাল বোধ করতে শুরু করলেও, ওষুধের পুরো কোর্সটি শেষ করা গুরুত্বপূর্ণ। এটি যক্ষ্মার ওষুধ-প্রতিরোধী স্ট্রেনের বিকাশ রোধ করতে সাহায্য করতে পারে।

টিবি রোগের ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

টিবি ওষুধের কিছু সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে:

  • বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া
  • ক্ষুধা হ্রাস
  • পেটে ব্যথা
  • মাথাব্যথা
  • মাথা ঘোরা
  • ক্লান্তি বা দুর্বলতা
  • জ্বর বা সর্দি
  • ত্বকে ফুসকুড়ি বা চুলকানি
  • জয়েন্টে ব্যথা বা ফুলে যাওয়া
  • চুল পড়া
  • পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি (স্নায়ুর ক্ষতি)
  • লিভারের ক্ষতি
  • দৃষ্টি সমস্যা
  • শ্রবণশক্তি হ্রাস
  • মানসিক স্বাস্থ্যের পরিবর্তন যেমন হতাশা বা উদ্বেগ
Next Post Previous Post