কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার সিরাপের নাম | ট্যাবলেট | ঔষধ | খাওয়ার নিয়ম | দাম


কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার সিরাপ ও ট্যাবলেট এর নাম সম্পর্কে বিস্তারিত
আপনি কি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার সিরাপ ও ট্যাবলেট এর নাম জানতে চান? তাহলে এই পোষ্টটি আপনার জন্যই। কোষ্ঠকাঠিন্য মানুষের একটি সাধারন সমস্যা। এটি বয়স্ক ব্যক্তিদের সবচেয়ে বেশি হয়। এটি যন্ত্রণাদায়ক এবং বিরক্তিকর সমস্যাও বটে। তবে মনে রাখবেন এই সমস্যা হঠাৎ করে একদিনে হয় না। 

এই সাধারণ সমস্যা কখনো কখনো বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই সতর্ক থাকার জন্য আপনাকে কারণ এবং করণীয় আগে থেকে জানতে হয়। তারপর আপনাকে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার ঔষধ খেতে হবে।

কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ

  • আঁশজাতীয় খাবার কম খেলে (কচুশাক, মিষ্টি আলুর শাক, কলমি শাক, পুদিনা পাতা, পুঁইশাক, মুলা শাক, ডাঁটা শাক, লাউ ও মিষ্টি কুমড়ার আগা-ডোগা শাক ইত্যাদি)
  • পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান না করলে
  • অতিরিক্ত রাত জাগলে
  • বিষন্নতা 
  • অতিরিক্ত চাপ থাকলে
  • মাদকসেবন করলে
  • পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম এর অভাব হলে
  • অতিরিক্ত তেল এবং মসলাযুক্ত খাবার খেলে
  • নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম না করলে
  • নিয়মিত ব্যায়াম না করলে
  • অস্বাস্থ্যকর এবং বাজে খাদ্যাভ্যাস
  • অপুষ্টিকর খাবার খেলে
  • ঘুমের অভাব থাকলে
  • আইবিএস সমস্যা থাকলে
  • নিয়মিত মলত্যাগ না করা
  • ঔষধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
  • গর্ভধারণ
  • কিছু ভিটামিন ( ক্যালসিয়াম, আয়রন ইত্যাদি)
  • অ্যালার্জি

কোষ্ঠকাঠিন্যের লক্ষণ

  • পায়খানা শক্ত এবং চাকার মত হয়
  • পায়খানা করতে কষ্ট হয়
  • পেট ফাঁপা
  • বমি বমি ভাব
  • পেটে ব্যথা হওয়া
  • দুশ্চিন্তা এবং অবসাদগ্রস্ত হওয়া
  • অস্বস্তি বোধ
  • পায়খানা করতে বেশি চাপ লাগে
  • শুস্ক কঠিন ও শক্ত মল
  • কখনো কখনো মলের সাথে রক্ত যেতে পারে

কোষ্ঠকাঠিন্য হলে করণীয়

  • প্রথমে আপনাকে কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়ার কারণ জানতে হবে।
  • দৈনিক দুই থেকে তিন লিটার পানি পান করতে হবে।
  • প্রচুর শাকসবজি এবং ফলমূল খেতে হবে। বিশেষ করে পেয়ারা এবং কলা নিয়মিত খাওয়ার চেষ্টা করবেন।
  • মাদকদ্রব্য এবং অ্যালকোহল সেবন করা যাবে না।
  • অতিরিক্ত তেল এবং মসলাযুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে।
  • অতিরিক্ত রাত জাগা যাবে না। চেষ্টা করবেন রাত ১১ টার আগে ঘুমিয়ে পড়ার।
  • প্রতিদিন হালকা ব্যায়াম বা পরিশ্রম করতে হবে। খেলাধুলা করতে পারেন নিয়মিত।
  • সঠিক সময়ে খাওয়া-দাওয়া করতে হবে।
  • মলত্যাগের তাগিদ উপেক্ষা করা যাবে না।
  • প্রয়োজনে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার সিরাপ বা ট্যাবলেট ঔষধ খেতে পারেন ‌

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার সিরাপের নাম (বড়দের এবং বাচ্চাদের)

Avolac Syrup

খাওয়ার নিয়ম: এভোল্যাক সিরাপ বাংলাদেশের স্বনামধন্য এরিস্টোফার্মা লিমিটেড কোম্পানির একটি সিরাপ ওষুধ। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার ঔষধ। যার গ্রুপ নাম হল ল্যাকটুলোজ। প্রাথমিক অবস্থায় প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের দৈনিক এই সিরাপ ৩ থেকে ৬ চা চামচ করে খেতে হবে। দীর্ঘদিন খেতে চাইলে এই সিরাপ দৈনিক ১.৫ থেকে ৬ চা চামচ করে সেবন করতে হবে। আর যাদের বয়স ১৪ বছরের কম তাদের প্রাথমিক অবস্থায় এই সিরাপ দৈনিক ৩ চা চামচ করে খাওয়াতে হবে এবং দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসায় ১ থেকে ২ চা চামচ করে খাওয়াতে হবে। ছোট্ট শিশু এবং বাচ্চাদের ক্ষেত্রে প্রাথমিক অবস্থায় দৈনিক ১ থেকে ২ চা চামচ করে খাওয়াতে হবে এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসায় দৈনিক ১ চা চামচ করে খাওয়াতে হবে। গর্ভাবস্থায় ও স্তনদানকালে এটি চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাওয়া যাবে।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া: এভোল্যাক সিরাপ সেবনে তেমন কোন ধরনের মারাত্মক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা যায় না। এটি সেবন করলে পেট ফাঁপা, আান্ত্রিক সংকোচন এবং উদরীয় অস্বস্তি সমস্যা দেখা দিতে পারে।

দাম: কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার এই সিরাপ ১০০ মিলির মূল্য ১৭০ টাকা এবং ২০০ মিলির মূল্য ২৯০ টাকা। এটি নিকটস্থ যেকোন ফার্মাসিতে পেয়ে যাবেন।

একই গ্রুপের আরো কিছু কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার সিরাপের নাম নিচে দেওয়া হলো:

  • Dlac Syrup
  • Lactulose Syrup
  • Osmolax Syrup
  • Ezylax Syrup
  • Inolac Syrup
  • Laclose Syrup

বিশেষ দ্রষ্টব্য: ল্যাকটুলোজ গ্রুপের সকল সিরাপ খাওয়ার নিয়ম ও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া একই।

Ezyfeel Syrup

খাওয়ার নিয়ম: Ezyfeel ইউরো ফার্মা লিমিটেড কোম্পানির একটি সিরাপ ওষুধ। যার গ্রুপ নাম হলো সোডিয়াম পিকোসালফেট। এটি পুরাতন ও দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্যে প্রতিরোধে কাজ করে থাকে। এটি বাজারে সিরাপ ও ট্যাবলেট আকারে পাওয়া যায়। এটি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার পূর্বে সেবন করতে হবে। প্রাপ্তবয়স্ক এবং ১০ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের জন্য দৈনিক ১ থেকে ২ চা চামচ করে খেতে হবে। ৪ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের জন্য দৈনিক আধা (১/২) চা চামচ থেকে ১ চা চামচ করে খেতে হবে। চার বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য ০.২৫ মিলি প্রতি কেজি শারীরিক ওজনের জন্য।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া: এই সিরাপ সেবনে কিছু সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তার মধ্যে রয়েছে: 

  • অতিসংবেদনশীলতা
  • মাথা ঘোরা
  • সাময়িক সংজ্ঞাহীনতা
  • ভ্যাসোভ্যাগাল প্রতিক্রিয়া
  • পরিপাকতন্ত্রের জটিলতা
  • ডায়রিয়া
  • পেটে ব্যথা
  • বমি বমি ভাব

দাম: Ezyfeel ৫০মিলি সিরাপ এর দাম ৮৫ টাকা এবং ১০০মিলি সিরাপ এর দাম ১৫০ টাকা।

একই গ্রুপের আরো কিছু কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার সিরাপের নাম নিচে দেওয়া হলো:

  • Dulcoflex Syrup
  • Picosul Syrup
  • Abdolax Syrup
  • Ezygo Syrup
  • Sopilax Syrup

বিশেষ দ্রষ্টব্য: সোডিয়াম পিকোসালফেট গ্রুপের সকল সিরাপ খাওয়ার নিয়ম ও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া একই।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার ট্যাবলেট এর নাম

Sopilax Tablet

খাওয়ার নিয়ম: সোপিলাক্স ট্যাবলেট বাংলাদেশের বিখ্যাত ওষুধ কোম্পানি স্কয়ারের একটি প্রোডাক্ট। যার গ্রুপ নাম হলো সোডিয়াম পিকোসালফেট। এটি পুরাতন ও দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্যে প্রতিরোধে কাজ করে থাকে। এটি বাজারে সিরাপ ও ট্যাবলেট আকারে পাওয়া যায়। প্রাপ্তবয়স্ক এবং ১০ বছরের বেশি বয়স প্রতিদিন ১টি করে ট্যাবলেট সেবন করতে হবে। ১০ বছরের কম বয়সী শিশুদের অর্ধেক (১/২) ট্যাবলেট প্রতিদিন সেবন করতে হবে। এটি ঘুমাতে যাওয়ার পূর্বে সেবন করতে হবে। গর্ভাবস্থায় ও স্তনদানকালে এটি সেবন করা যাবে। তবে গর্ভের প্রথম তিন মাস এটি সেবন করা উচিত নয়।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া: সোপিলাক্স ট্যাবলেট সেবনে কিছু সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তার মধ্যে রয়েছে: 

  • অতিসংবেদনশীলতা
  • মাথা ঘোরা
  • সাময়িক সংজ্ঞাহীনতা
  • ভ্যাসোভ্যাগাল প্রতিক্রিয়া
  • পরিপাকতন্ত্রের জটিলতা
  • ডায়রিয়া
  • পেটে ব্যথা
  • বমি বমি ভাব

এছাড়া আরো কিছু কার্যকরী কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার ট্যাবলেট এর নাম নিচে দেওয়া হলো:

  • Duralax Tablet
  • Ezyfeel Tablet 
  • Lubigut 8 Tablet
  • Ezylife 10 Tablet
  • Laxavin Tablet
  • Glysup Tablet

বিশেষ দ্রষ্টব্য: সোডিয়াম পিকোসালফেট গ্রুপের সকল ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম ও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া একই।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার হোমিও ঔষধ

  • Oplum 200
  • Plumbum Met 200
  • Alumina 30

Next Post Previous Post