অনিয়মিত মাসিকের ঔষধ | মাসিক নিয়মিত করার ট্যাবলেট নাম | সেবন বিধি | দাম
নিয়মিত মাসিক নারীদের সুস্বাস্থ্য এবং সুস্থতার লক্ষণ। যদি কোনো কারণে সেটা অনিয়মিত হয়ে যায় তাহলে সেটা কখনোই ভালো লক্ষণ নয়। এর মানে নারীদের শরীরে কোন না কোন সমস্যা রয়েছে।
প্রতি মাসে সঠিক সময়ে পিরিয়ড না হয়ে ১০ দিন পর পর, ১৫ দিন পর পর কিংবা দুই মাস পর পর মাসিক হলে সেটাকে সাধারণত অনিমিত মাসিক চক্র হিসেবে ধরা হয়। অবশ্যই আপনাকে এর কারণ জেনে চিকিৎসা করতে হবে। সবসময় চেষ্টা করবেন ঘরোয়া টিপস অনুসরণ করে যে কোন রোগের চিকিৎসা করার।
অনিয়মিত মাসিক কেন হয়?
অনিয়মিত পিরিয়ড হওয়ার বিভিন্ন কারণ রয়েছে। কিছু সম্ভাব্য কারণ নিচে তুলে ধরা হলো:
- মেনোপজ।
- হরমোনের ভারসাম্যহীনতা।
- ঠান্ডা, সর্দি ও গলার ইনফেকশন হলে।
- অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করলে।
- জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি অবলম্বন (পিল, প্যাঁচ, ইঞ্জেকশন ও আইইউডি)।
- অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করলে।
- অপরিষ্কার ও অপরিচ্ছন্ন থাকলে।
- মাদক কিংবা ধূমপানের অভ্যাস থাকলে।
- শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ালে।
- ক্যাফেইন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করলে।
- অতিরিক্ত পরিমাণ মানসিক চাপ নিলে।
- অতিরিক্ত কফি পান করলে।
- অতিরিক্ত পরিমাণ শরীর চর্চা করলে।
- পলিস্টিক ওভারি সিনড্রোম।
- অন্তঃসত্ত্বা।
- ওজন কম বা বেশি হলে ।
মাসিক নিয়মিত করার জন্য করণীয়
একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বজায় রাখা স্বাভাবিকভাবে আপনার মাসিক চক্র নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করতে পারে। এখানে কিছু টিপস রয়েছে:
- নিয়মিত যোগব্যায়াম ও মেডিটেশন করতে পারেন।
- নিয়মিত হালকা শারীরিক ব্যায়াম করতে পারেন।
- বেশি বেশি কাঁচা পেঁপে খাওয়ার চেষ্টা করেন।
- একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্য অভ্যাস বজায় রাখুন। (প্রচুর ফল, শাকসবজি এবং দানা শস্য )
- মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করুন।
- পর্যাপ্ত ঘুম পান নিশ্চিত করুন।
- ধূমপান এবং অত্যধিক অ্যালকোহল সেবন এড়িয়ে চলুন।
অনিয়মিত মাসিকের ঔষধ | মাসিক নিয়মিত করার ট্যাবলেট এর নাম
- নরমেনস ট্যাবলেট
- হেমোফিক্স এফজেড ট্যাবলেট (আয়রন সাপ্লিমেন্ট)
- এলজিন ট্যাবলেট (যদি পেটে ব্যথা থাকে)
- সেকলো ২০ ক্যাপসুল (যদি গ্যাস থাকে)
নরমেনস ট্যাবলেট
খাওয়ার নিয়ম: নরমেনস ট্যাবলেট রেনেটা লিমিটেড কোম্পানির একটি ওষুধ। যার গ্রুপ নাম হল নরইথিস্টেরন এসিট্যাট। এটি অনিয়মিত মাসিক হওয়ার প্রথম দিন থেকে টানা ২১ দিন খেতে হবে। অর্থাৎ যেদিন আপনার প্রথম মাসিক হবে সেদিন থেকে একটানা ২১ দিন সেবন করতে হবে। এরপর আপনাকে ৭ দিন বন্ধ রাখতে হবে খাওয়া। এরপর আপনাকে আবার একটা নাই ২১ দিন খেতে হবে। আবার ৭ দিন বিরতিতে যেতে হবে। তারপর আবার ২১ দিন খেতে হবে। অর্থাৎ সহজ কথায় ২১+৭+২১+৭+২১ এখানে ৭ দিন বিরতি আর ২১ দিন হল খাওয়া। এভাবে তিন মাস সেবন করতে হবে। ওষুধ খাওয়া চলাকালীন মাসিক হোক আর না হোক আপনাকে সেটা কন্টিনিউ করতে হবে। তাহলে একটা সময় পর আপনার পিরিয়ড চক্র নিয়মের মধ্যে চলে আসবে। এর সাথে আপনাকে সহায়ক ওষুধ হিসেবে কিছু ওষুধ খাওয়া লাগতে পারে। অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খেতে হবে।
দাম: প্রতিটি নরমেনস ট্যাবলেট এর মূল্য ৬.৫০ টাকা মাত্র আর প্রতি পাতার মূল্য ৬৫ টাকা মাত্র।
হেমোফিক্স এফজেড ট্যাবলেট (আয়রন সাপ্লিমেন্ট)
খাওয়ার নিয়ম: প্রতিদিন সকালে এবং রাতে খাওয়ার পর ভরা পেটে একটি করে ট্যাবলেট খেতে হবে। এভাবে দুই থেকে তিন মাস খেতে হবে।
দাম: প্রতি পিস হেমোফিক্স এফজেড ট্যাবলেট এর মূল্য ৫ টাকা এবং প্রতি পাতা ট্যাবলেট এর মূল্য ৫০ টাকা মাত্র।
এলজিন ট্যাবলেট (যদি পেটে ব্যথা থাকে)
খাওয়ার নিয়ম: মাসিক নিয়মিত করার ট্যাবলেট খাওয়ার সময় যদি পেট ব্যথা থাকে তাহলে এলজিন ট্যাবলেটটা আপনাকে সেবন করতে হবে। প্রতিদিন সকালে, বিকালে এবং রাতে একটি করে ট্যাবলেট খাওয়ার পর ভরা পেটে সেবন করতে হবে। যতদিন পেট ব্যথা থাকবে ততদিন এটি সেবন করবেন।
দাম: এলজিন প্রতি পিস ট্যাবলেট এর মূল্য ৮.৫০ টাকা মাত্র।
সেকলো ২০ ক্যাপসুল (যদি গ্যাস থাকে)
খাওয়ার নিয়ম: যদি আপনার গ্যাস সমস্যা হয় তাহলে এই ক্যাপসুল খেতে পারেন। সকালে এবং রাতে খাওয়ার পূর্বে খেতে হবে। ৩০ মিনিট থেকে ৬০ মিনিট পূর্বে সেবন করতে হবে।
দাম: প্রতিটি সেকলো ২০ ক্যাপসুল এর মূল্য ৬ টাকা। এটি স্কয়ার কোম্পানির ওষুধ।
বিশেষ সতর্কীকরণঃ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ঔষধ সেবন করবেন না। অবশ্যই কারণ ও করণীয় সম্পর্কে জেনে নিবেন। তারপর অনিয়মিত মাসিকের ঔষধ খাবেন। নতুবা এই সমস্যার সমাধান হবে না।
