মাসিকের ব্যাথা কমানোর দোয়া ও ঔষধ
- প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিনস: এগুলো হল হরমোনের মতো পদার্থ যা মাসিকের সময় জরায়ুর আস্তরণে তৈরি হয়। প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিনগুলো জরায়ুকে সংকুচিত করে, যা ক্র্যাম্পিং এবং ব্যথা হতে পারে।
- এন্ডোমেট্রিওসিস: এটি এমন একটি অবস্থা যেখানে জরায়ুকে রেখাযুক্ত টিস্যু এর বাইরে বৃদ্ধি পায়। টিস্যু ডিম্বাশয়, ফ্যালোপিয়ান টিউব এবং পেলভিক অঞ্চলের অন্যান্য অঙ্গগুলোতে বৃদ্ধি পেতে পারে, যা মাসিকের সময় ব্যথা এবং অস্বস্তি সৃষ্টি করে।
- অ্যাডেনোমায়োসিস: এটি এমন একটি অবস্থা যেখানে টিস্যু যা সাধারণত জরায়ুর অভ্যন্তরে রেখাযুক্ত থাকে তা জরায়ুর পেশীবহুল প্রাচীরে বৃদ্ধি পায়। এটি মাসিকের সময় ভারী রক্তপাত এবং গুরুতর ক্র্যাম্প হতে পারে।
- ফাইব্রয়েড: এগুলো অ-ক্যান্সার বৃদ্ধি যা জরায়ুতে বিকাশ লাভ করে। তারা মাসিকের সময় ভারী রক্তপাত এবং ক্র্যাম্পিং হতে পারে।
- পেলভিক ইনফ্ল্যামেটরি ডিজিজ (PID): পিআইডি হল ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট প্রজনন অঙ্গের একটি সংক্রমণ। এটি মাসিকের সময় ব্যথা এবং অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে, সেইসাথে অন্যান্য উপসর্গ যেমন জ্বর, বমি বমি ভাব এবং বমি হতে পারে।
- ডিম্বাশয়ের সিস্ট: এগুলো তরল-ভরা থলি যা ডিম্বাশয়ে বিকাশ লাভ করে। ঋতুস্রাবের সময় তারা ফেটে গেলে বা মোচড় দিলে ব্যথা এবং অস্বস্তি হতে পারে।
- থাইরয়েড ব্যাধি: থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্যহীনতা মাসিক চক্রকে প্রভাবিত করতে পারে এবং মাসিকের সময় ব্যথা এবং অস্বস্তির কারণ হতে পারে।
- স্ট্রেস: উচ্চ মাত্রার স্ট্রেস হরমোনের ভারসাম্যহীনতার দিকে পরিচালিত করতে পারে, যা মাসিকের ব্যথা শুরু করতে পারে।
- অন্তঃসত্ত্বা ডিভাইস (IUDs): এইগুলো গর্ভাবস্থা প্রতিরোধ করার জন্য জরায়ুতে ঢোকানো ছোট ডিভাইস। তারা মাসিকের সময় ক্র্যাম্পিং এবং ব্যথা সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষত সন্নিবেশের পর প্রথম কয়েক মাসে।
- সার্ভিকাল স্টেনোসিস: এটি এমন একটি অবস্থা যেখানে সার্ভিকাল খোলার অংশ সরু হয়, যা জরায়ু থেকে মাসিকের রক্ত প্রবাহকে কঠিন করে তোলে। এটি মাসিকের সময় ব্যথা এবং অস্বস্তির কারণ হতে পারে।
মাসিকের ব্যথা কমানোর উপায়
উপশমের জন্য ওভার-দ্য-কাউন্টার ওষুধ পাওয়া গেলেও মাসিকের ব্যথা কমানোর প্রাকৃতিক উপায়ও রয়েছে। মাসিকের ব্যথা উপশম করার জন্য এখানে কিছু কার্যকর উপায় রয়েছে:
- ব্যায়াম: ঋতুস্রাবের আগে এবং সময় নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপে নিযুক্ত করা ব্যথার মাত্রা কমাতে সাহায্য করতে পারে। ব্যায়াম এন্ডোরফিন নির্গত করে, যা প্রাকৃতিক ব্যথানাশক যা মাসিকের ক্র্যাম্প উপশম করতে সাহায্য করতে পারে।
- হিট থেরাপি: তলপেটে তাপ প্রয়োগ করা পেশী শিথিল করতে এবং ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে। তলপেটে রাখা একটি হিটিং প্যাড বা গরম পানির বোতল স্বস্তি দিতে পারে।
- ম্যাসেজ: নীচের পিঠ এবং পেটের মৃদু ম্যাসেজ উত্তেজনা উপশম করতে এবং ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে। ল্যাভেন্ডার, ক্লারি সেজ এবং পেপারমিন্টের মতো প্রয়োজনীয় তেল দিয়ে ম্যাসেজ করাও সহায়ক হতে পারে।
- খাদ্যতালিকাগত পরিবর্তন: কিছু খাবার এবং পানীয় মাসিকের ক্র্যাম্পকে ট্রিগার বা খারাপ করতে পারে। ক্যাফেইন, অ্যালকোহল এবং নোনতা বা প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা প্রদাহ কমাতে এবং ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
- ভেষজ প্রতিকার: কিছু ভেষজ যেমন আদা, হলুদ এবং ক্যামোমাইলের প্রদাহ বিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা মাসিকের ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে। এই ভেষজগুলি সম্পূরক হিসাবে নেওয়া যেতে পারে বা চায়ে তৈরি করা যেতে পারে।
- আকুপাংচার: আকুপাংচারে ব্যথা উপশম করার জন্য শরীরের নির্দিষ্ট পয়েন্টে সূঁচ ঢোকানো জড়িত। এই কৌশলটি মাসিকের ব্যথা কমাতে কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে।
- স্ট্রেস হ্রাস: স্ট্রেস মাসিকের ব্যথা বাড়িয়ে তুলতে পারে। যোগব্যায়াম, ধ্যান এবং গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়ামের মতো শিথিলকরণ কৌশলগুলি অনুশীলন করা চাপের মাত্রা কমাতে এবং ব্যথা উপশম করতে সহায়তা করতে পারে।
মাসিকের ব্যাথা কমানোর দোয়া
দোয়া ১: আল আ’জীমু
আমল করার নিয়ম: প্রথমে ১ গ্লাস পানি নিবেন। তারপর ১ বার দরুদে ইব্রাহিম পাঠ করবেন। তারপরে মহান আল্লাহর গুণবাচক সিফাতি নামটি ৭ বার পাঠ করবেন। তারপর পানিতে তিনবার ফু দিবেন। তারপর আবার দরুদে ইব্রাহিম একবার পাঠ করবেন। এরপর বিসমিল্লাহ বলে সে পানি টা আপনি খেয়ে নেবেন। দেখবেন মুহূর্তের মধ্যে আল্লাহর রহমতে আপনার মাসিকের ব্যথা ভালো হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ।
দোয়া ২: ইয়া মুতাআল বা ইয়া মুতায়ালী
আমল করার নিয়ম: মাসিকের ব্যথা চলাকালীন আল্লাহর গুণবাচক নামটি ১২১ বার পাঠ করে পানিতে ফুঁ দিয়ে খেতে হবে। প্রতিদিন ১ বার খেতে হবে যতদিন ব্যথা থাকবে। ইনশাআল্লাহ, মাসিকের ব্যথা ঠিক হয়ে যাবে।
দোয়া ৩: লা' ফীহা' গওলুন ওয়া লা’হুম আনহা’ ইউনযাফূন।
আমল করার নিয়ম: আল্লাহ তাআ'লার উপর বিশ্বাস রেখে উক্ত আয়াতটি ৩/৭/১১ বার পাঠ করে ১ গ্লাস পানিতে ৩ বার ফু দিতে হবে। তারপর সেই পানি খেতে হবে। প্রতিদিন আমলটি করে পানি খাবেন যতদিন ব্যথা থাকবে।
মাসিকের ব্যাথা কমানোর ঔষধের নাম
- অ্যালজিন ট্যাবলেট
- HPR Ds Tablet
- Neogest Tablet
- Traxyl Tablet
মাসিক বা পিরিয়ড সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর
পিরিয়ডের সময় চকলেট খেলে কি হয়?
পিরিয়ডের সময় চকলেট খেলে পিরিয়ডের ব্যথা কম হয়।
পিরিয়ডের সময় কি কি করা উচিত নয়?
- উপুর হয়ে শুয়ে থাকা
- ভারি কাজ করা
- ভারী জিনিস তোলা
- ভারী কোনো ব্যায়াম করা
- পানি কম পান করা
মাসিক কত দিন পর পর হয়?
মাসিক ২১ থেকে ৩৫ দিন পর পর হয়।
পিরিয়ডের সময় কি কি খাবার খাওয়া উচিত?
- তরমুজ
- শশা
- আপেল
- মাছ
- মাংস
- ডিম
- কলিজা
- কচুশাক
- পুঁইশাক
- ডাটাশাক
- খেজুর
- পাকা তেঁতুল
- আমড়া
পিরিয়ডের সময় কি কি ফল খাওয়া উচিত?
- তরমুজ
- শশা
- আপেল
পিরিয়ডের সময় টক খেলে কি হয়?
পিরিয়ডের সময় কিছু বিশেষ ধরনের টক জাতীয় খাবার খেলে ব্লি*ডিং বাড়ে। তবে টক দই খাওয়া ভালো।
পিরিয়ডের সময় দুধ খেলে কি হয়?
পিরিয়ডের সময় দুধ খেলে শারীরিক কষ্ট বৃদ্ধি পায়।
পিরিয়ডের সময় আইসক্রিম খেলে কি হয়?
পিরিয়ডের সময় চকলেট খেলে পিরিয়ডের ব্যথা কম হয়।
